যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে নিহত সেনা কমান্ডারদের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নিহত সামরিক কমান্ডারদের জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন ইরান। বুধবার রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে এসব জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার জন্য যৌথ জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজায় অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসেন।

খবরে বলা হয়, জানাজা মিছিল এনকেলাব স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে ‘মেরাজ-ই শোহাদা’ নামে পরিচিত শহীদদের সমাধিস্থলের দিকে যায়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বর্তমান নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি–এর ছবি বহন করেন এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র–বিরোধী স্লোগান দেন।

নিহতদের তালিকায় ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান আব্দুর রহিম মুসাভি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে এবং সর্বোচ্চ নেতার সামরিক দপ্তরের প্রধান মোহাম্মদ শিরাজি।

মোহাম্মদ শিরাজির মৃত্যু বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এ ছাড়া যুদ্ধে নিহত হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও তাদের পদমর্যাদা জানানো হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহসেন দারেহ-বাঘি, হাসান-আলি তাজিক, দাউদ আসগারি, বাহরাম হোসেইনি মোতলাক, আবুল কাসেম বাবায়ান, রাসূল হেলালি এবং গোলামরেজা রেজাইয়ান।

ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান তেহরানে ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক হামলায় নিহত হন।

সূত্র: আল জাজিরা ও ইরান ওয়্যারে

এসএন/পিপিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *