যুদ্ধের পাঁচ দিনে ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত, দাবি ইরানের

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শনিবার থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫০০র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

বুধবার দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে আলী লারিজানি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ভাঁড়ামোতে’ প্রভাবিত হয়ে ট্রাম্প মার্কিন জনগণকে ইরানের বিরুদ্ধে এক ‘অন্যায় যুদ্ধে’ টেনে এনেছেন। 

লারিজানি প্রশ্ন তোলেন, ‘গত কয়েক দিনে ৫০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহতের পর এখন ট্রাম্পকে হিসাব করতে হবে, আমেরিকা কি এখনও সবার আগে, নাকি ইসরায়েল?’

তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজন কুয়েতে নিহত হয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাবেক এই উপদেষ্টা বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কাহিনী এখানেই শেষ নয়। ইমাম খামেনির শাহাদাতের জন্য তোমাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। খামেনির তেহরানের বাসভবনে চালানো ওই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিরাও নিহত হয়েছেন।

ইরান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, চার দিনের লড়াইয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছে।

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। 

সোমবার এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেছিলেন, ইরান একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *