ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামে তিন দলের দরকষাকষি শেষে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। আইপিএল ইতিহাসে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে ফিজকে দলে নিয়েছিল কেকেআর।
এতো টাকা দিয়ে নিলামের মঞ্চে দুই দলের সঙ্গে দরকষাকষি শেষে মুস্তাফিজকে নিশ্চিতভাবেই একাদশে রাখার পরিকল্পনাতেই নিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু ভারতের উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা মুস্তাফিজকে বিমানবন্দর থেকেই বের হতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। ফিজকে খেলালে স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।
পরবর্তীতে ফিজকে ছেড়ে দিতে কেকেআরকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। এরপরই টাইগার পেসারকে বাদ দেয় কেকেআর। যা নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে দুই দেশের মধ্যে। বাংলাদেশ তো বিশ্বকাপই খেলতে যায়নি ভারতে।
পরবর্তীতে মুস্তাফিজের পরিবর্তে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারবানিকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা। বিশ্বকাপে এই জিম্বাবুইয়ান তারকার পারফরম্যান্স দেখে তাকে দলে নিয়েছিল দলটি। তবে আস্থার প্রতিদান সেভাবে দিতে পারেননি তিনি। ব্যাটারদের রাজত্বে গিয়ে দুর্বল প্রজার মতোই শাসিত হয়েছেন মুজারাবানি।
দুই ম্যাচে কলকাতার একাদশে সুযোগ পেয়ে ৭ ওভার বল করেছেন মুজারাবানি। ৭৫ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৪ উইকেট। যেখানে ইকোনোমি দাঁড়ায় ১০.৭১। যেখানে মুস্তাফিজের আইপিএল ক্যারিয়ারেই ইকোনোমি মোটে ৮.১৩।
ফিজকে বাদ দেওয়া কেকেআরও তাই ডুবেছে এখন করুণ দশায়। সর্বশেষ চার ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি তারা। পয়েন্ট টেবিল বলছে, ১৪ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই হেরেছে কলকাতা। জয় পেয়েছে মোটে ৫টি ম্যাচে। বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে ২টি ম্যাচ।
সবমিলিয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে রয়েছে কেকেআর। টুর্নামেন্টে বাকি আছে আর ৪টি ম্যাচ। এই ৪টি ম্যাচের সবগুলো জিতলেও প্লে-অফে কোয়ালিফাই করা কঠিন কেকেআরের।