বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বাগেরহাটে নিহত বেড়ে ১৪

বাগেরহাটের রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জন হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রামপাল রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত চারটি মরদেহে এখনও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেছে।

বাগেরহাটের রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) সুব্রত মন্ডল জানান, নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আর চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুসহ ৯ জনের লাশ আমাদের হাসপাতালে এসেছে। মৃত অবস্থায় তাদের আনা হয়।’
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। গুনাই ব্রিজের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন এসে মাইক্রোবাসে থাকা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলায় যাচ্ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা সবাই একই পরিবারের। মোংলা পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আ. রাজ্জাকের পরিবার। এ দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের ড্রাইভার নিহত হয়েছেন, তার বাড়ী বাগেরহাটের রামপালে।

বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২ জন একই পরিবারের

বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। এরমধ্যে ১২ জনই একটি পরিবারের সদস্য। মোংলা পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের পুরো পরিবার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।

নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। আবদুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরা খুলনা থেকে মাইক্রোবাসযোগে মোংলায় ফিরছিলেন। কিন্তু রামপালের বেলাইব্রিজ (গুনাই ব্রিজ) এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজন প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়ায়।

পরিবারের ১২ সদস্যের পাশাপাশি মাইক্রোবাসটির চালকও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। চালকের বাড়ি রামপাল উপজেলাতেই। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, নিহতরা সবাই একই পরিবারের এবং তারা মোংলার বাসিন্দা। মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেহনাজ মোশাররফ বলেন, আমাদের এখানে শিশুসহ ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। তাদের মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *