দেশে কর্মক্ষম মানুষ ৭ কোটি ১৭ লাখের বেশি : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বা শ্রমশক্তি ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক ‘শ্রমশক্তি জরিপের মাধ্যমে শ্রমবাজার তথ্যের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমশক্তি জরিপটি সর্বশেষ ২০২৪ সালে পরিচালিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বা শ্রমশক্তি (১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী কর্মে নিয়োজিত ও বেকার জনগোষ্ঠী) ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ও নারী ২ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০২৬ সালে জরিপটি পরিচালনার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুসারে দেশে প্রতিবছর গড়ে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ১৩ দশমিক ৬ লাখ জনগোষ্ঠী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে।

গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ)  সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া ৫০০টিরও বেশি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ১০ শতাংশেরও কম এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমানে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে; যেখানে অপচয় ও দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

আমির খসরু বলেন, এ তথ্য সরকারি নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং যেহেতু প্রকল্পগুলো পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমির খসরু আরও বলেন, আমরা যদি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে চাই এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব প্রকল্প গ্রহণে কাজ করছে, যা সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে উন্নয়ন প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন এবং কোনো প্রকল্প স্থানীয় জীবনমান উন্নয়ন ও জীবিকা বৃদ্ধির জন্য উপযোগী ও কার্যকর হলে তা ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী আমির খসরু বলেন, কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে আরও ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক সংবাদ দেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *