ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেল নিতে পাম্পে দীর্ঘ লাইন

জ্বালানি তেল বিতরণের ওপর থেকে সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই তেলের সংকট রয়ে গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলমান ছুটির তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবারও (১৯ মার্চ) রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে অনেক এলাকায় পাম্প বন্ধ রয়েছে। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি ঠেকাতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সকাল থেকেই অনেক পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তেল নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ক্রেতাকে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতে ফিরে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, মেরাদিয়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, তেজগাঁও, বিজয় সরণি ও মহাখালী এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তবে পাম্পে তেল না পেলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। রেশনিং তুলে নেওয়ার পর জ্বালানি তেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেরাদিয়া এলাকার বনশ্রী ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও এলাকায় সিকদার ফিলিং স্টেশন ও আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে তেজগাঁও এলাকার মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানি, বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং মহাখালী এলাকার ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে দীর্ঘ সারিতে যানবাহনে তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে তেল দেওয়া হচ্ছে। এর বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার চালকদের। সরকারের তরফ থেকে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়া হয়েছে গত রোববার (১৫ মার্চ) থেকে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার চালকদের।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানির ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা। এ সময় মোটরসাইকলে করে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। যাত্রাপথে একটু তেল বেশি চাওয়ার বাগবিতণ্ডা ঘটে। 

মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানির ফিলিং স্টেশনে কর্মীরা জানান, পাম্পে তেল মজুদ কম আছে। তাই বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানকার ব্যক্তিগত গাড়ির সারি জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়েছে। আর মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় থাকা হালিম আহমেদ বলেন, “ঘণ্টাখান সময় চলে গেছে, এখনো পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছাতে পারিনি। কখন তেল নিতে পারব তাও বলতে পারছি না। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে তেল সরবরাহ বাড়ানো উচিত ছিল।”

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মী বলেন, “তেলের কোনো সংকট নেই। সিরিয়াল অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।”
 এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *