ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত, অপেক্ষা নাম ঘোষণার

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় পরিষদ একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে রোববার (৮ মার্চ) এর সদস্যরা জানিয়েছেন, যদিও নির্বাচিত ব্যক্তির নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস) সদস্য আহমেদ আল-মোলহুদা বলেন, ‘নেতা নিয়োগের জন্য ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।’ তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয় পরবর্তীতে এই নাম ঘোষণা করবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে এই পদের দায়িত্ব নিতে পারেন। ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম বেশ আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। উল্লেখ্য, এই পদটি ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, যা রাষ্ট্রের সকল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আইএসএনএ নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুসারে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য মোহসেন হায়দারি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতে অনুমোদিত সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্ধারণ করা হয়েছে।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত ব্যক্তির নাম ‘বড় শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) নিজেও উল্লেখ করেছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তারও ভূমিকা থাকা উচিত। তিনি মোজতবা খামেনিকে ‘গুরুত্বহীন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকে এই পদের জন্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, উত্তরসূরি নির্বাচনে ট্রাম্পের কোনো ভূমিকা থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

পরিষদের আরেক সদস্য মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত একটি ভিডিওতে নিশ্চিত করেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে একটি সুদৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, যা পরবর্তীতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়। রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ফারসি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা সদস্যদের হামলার ‘লক্ষ্যবস্তু’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ‘আমরা আপনাদের জানাতে চাই যে, ইসরায়েল যেকোনো উত্তরসূরি এবং তাঁকে নিয়োগের চেষ্টাকারীদের ওপর নিবিড় নজর রাখছে। যারা এই সভায় অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের সতর্ক করছি যে আপনাদের লক্ষ্যবস্তু করতে আমরা দ্বিধা করব না।’

তবে মিরবাঘেরি জোর দিয়ে বলেছেন, পরিষদের সদস্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন এবং নানা বাধা থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে এই কাজ সম্পন্ন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *