ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্যেই পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে অবিলম্বে উদ্ধার অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিধ্বস্ত বিমানে থাকা ক্রুদের বর্তমান অবস্থা বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। খবর আল জাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ জ্বালানিবাহী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকাশসীমায় দুটি বিমানের মধ্যে সংঘর্ষ অথবা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহড়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে, এই ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা ভুলবশত নিজেদের গুলিতে ঘটেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর এটি মার্কিন বাহিনীর সর্বশেষ বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এই দুর্ঘটনার আগে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত সাত মার্কিন সেনা নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে ১ মার্চ কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত ছোড়া গুলিতে তিনটি মার্কিন এ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলেও সে যাত্রায় ক্রুরা প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি মার্কিন ভোটার এই আক্রমণের বিরোধী ও ৭৪ শতাংশ নাগরিক ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিত্বরাও এই যুদ্ধকে ‘মন্দ’ অভিহিত করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, পারমাণবিক যুদ্ধ রোধ করতেই এই অভিযান অপরিহার্য ছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক হাজার ৩৪৮ জন ইরানি, সাতজন মার্কিন ও ১৫ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।