আলোচনা মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার দাবি করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীনভাবে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর জানায়। 

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, এবার উত্তর ক্যারোলিনা থেকে ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের’ প্রায় ৩ হাজার প্যারাট্রুপার মোতায়েন করা হচ্ছে। এই বিশেষ ইউনিটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বড় ধরনের অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তিনটি রণতরীসহ প্রায় আড়াই হাজার স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের মেরিন সদস্য পাঠানো হয়েছিল।

এই ব্যাপক সৈন্য সমাবেশের মূল লক্ষ্য হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপকে’ চিহ্নিত করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে ইরানের অর্থনীতির ‘মুকুটমণি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে এই দ্বীপটি দখল বা অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের মূল ভূখণ্ডের এত কাছে এ ধরনের স্থল অভিযান বা ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ইরান ইতোমধ্যেই দ্বীপটির চারপাশে মাইন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আলোচনার কথা বলা হলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো একে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতে চলছে। এতদিনেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

জার্মানি ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলো এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘মহাবিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন জনগণের মধ্যেও এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত যুদ্ধ আসলে আর কতদিন চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *