মাদারীপুরে ৪০ বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে আলমগীর হাওলাদার (৫০) নামে এক ওয়াইফাই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিহিংসায় প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০-৩৫টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এরই জের ধরে নিহত আলমগীর পক্ষের লোকজন হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় জেলা বিএনপির নেতা লাবলু হাওলাদার, হাসান মুন্সীর ঘরসহ অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি। এসময় আরো অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আখতার হাওলাদারের সমর্থকেরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিস।
অভিযোগ উঠেছে, ঘরবাড়ি থেকে আসবাবপত্রের পাশাপাশি গরু-ছাগলও লুটে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। বিক্ষুব্ধরা রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল, যা পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার পক্ষ ও হাসান মুন্সী পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে বিগত বছরগুলোতে এলাকা কিছুটা শান্ত থাকলেও গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর মাথাচারা দিয়ে ওঠে দুইপক্ষ। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, ঘটে শত শত ককটেল বিস্ফোরণ। কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সীকে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারের বসতবাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন। এসময় আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হয় হাত, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাসুদ বেপারীসহ দুই জনকে আটক করা হয়েছে।