অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে স্বপ্নের শুরুর পর বিষাদে সমাপ্তি বাংলাদেশের

প্রথমবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুটাও হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ২-০ গোলের লিড নিয়েছিল পিটার বাটলারের দল। কিন্তু শেষটা হলো বিষাদে মাখা। ৯ মিনিটের মধ্যে তিন গোল হজম করে, হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।

আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের থামাসাত স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-২ গোলের হার দেখল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের চিরচেনা সেই নীতিতেই মাঠে নামে বাংলাদেশ। প্রথম আসরেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াইটাও জমিয়ে তোলেন সাগরিকা-সুরভি আকন্দ প্রীতিরা। থাইল্যান্ডের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে বাংলাদেশ।

খেলার মাত্র ২৫ মিনিটেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে কোনো চোট ছাড়াই ফুটবলার তুলে নেন বাটলার। মিডফিল্ডার স্বপ্না রাণীকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান পূজা দাসকে। সাধারণত প্রথমার্ধে এমন পরিবর্তন দেখা যায় না ফুটবলে। সেই পরিবর্তনের সুফল পায় বাংলাদেশ দশ মিনিট পর। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে থাইল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন সাগরিকা।

ক্ষিপ্রগতিতে সঙ্গে থাকা মার্কারকে পেছনে ফেলে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড। থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাগরিকার প্লেসিং শট তার হাতে লাগলেও বল গিয়ে জালে জড়ায়। প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে এশিয়ান কাপে গোল করেন তিনি।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর জাল খুঁজে পায়নি কোনো দল। ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে গিয়ে উমেহ্লা মারমা থ্রু বল বাড়ান সাগরিকার উদ্দেশ্যে। পাশে থাকা মার্কারকে আবারও গতিতে পরাস্ত করে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক এগিয়ে এলেও আটকাতে পারেননি বল। নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড সাগরিকা।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে বিপদে পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। ছয় গজ বক্সে বল বাড়িয়েছিল থাইল্যান্ড। সেটাকে ক্লিয়ার করে দেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। দুই মিনিট পর সেটপিস থেকে নেওয়া শট সহজেই আটকে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৬১তম মিনিটে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বল নিয়ে বক্সে চলে যান থাইল্যান্ডের ফুটবলার। তার শট আটকে দেন মিলি। ৬৬তম মিনিটে আবারও বাংলাদেশকে রক্ষা করেন তিনি। বক্সের মধ্যে ফাঁকায় থাইল্যান্ডের নেওয়া শট প্রথম দফায় আটকে গ্লাভসবন্দি করতে না পারলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় সেটি গ্লাভসে নেন মিলি।

৬৭তম মিনিটে ভুল করে বসেন ডিফেন্ডার সুরভী আক্তার আরফিন। বক্সের মধ্যে ফাউল করেন থাইল্যান্ডের ফুটবলারকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি খুরিসারা।

৭৫তম মিনিটে আবারও পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বক্সের মধ্যে ফাউল করেন নবীরণ খাতুন। পেনাল্টি থেকে এবার বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়ে দেন রিনিয়াফাত। সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

তিন মিনিট পরই আবারও গোল হজম করে বাংলাদেশ। আফঈদা খন্দকারের ভুল পাসে বল পেয়ে যায় থাইল্যান্ড। সেখান থেকে বক্সের মুখে বাড়ানো হয় থ্রু-বল। সেটি নিয়ে বক্সে ঢুকে বল জালে জড়িয়ে দেন পিছায়তিডা। লিড নেয় থাইল্যান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *